শহরের ব্যস্ত একটি রাস্তার পাশে প্রতিদিন ঝালমুড়ির ছোট্ট দোকান নিয়ে বসেন এক বাবা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মানুষের ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে যা আয় করেন, তা দিয়েই কোনোভাবে চলে তাঁর পরিবারের সংসার।
সংসারে স্ত্রী ও যমজ চার সন্তান। সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দেওয়া, পড়াশোনার খরচ চালানো এবং ঘরের প্রয়োজন মেটাতে প্রতিদিনই নতুন করে সংগ্রাম করতে হয় তাঁকে।
বাবা জানান, আয় খুব বেশি নয়। কোনো দিন ভালো বিক্রি হলে কিছুটা স্বস্তি আসে, আবার কোনো দিন বিক্রি কম হলে সংসারের খরচ মেলানো কঠিন হয়ে পড়ে। তারপরও সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তিনি প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঝালমুড়ির দোকান নিয়ে বেরিয়ে পড়েন।
চার সন্তানই বাবার কাজের কষ্ট বোঝে। বাবাকে দোকানে ব্যস্ত দেখে তারাও বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করার চেষ্টা করে। সন্তানদের মুখে হাসি দেখলেই সারাদিনের ক্লান্তি ভুলে যান বাবা।
পরিবারটির এই সংগ্রামের গল্প শুনে আশপাশের অনেক মানুষও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কেউ খাবার কিনে সহযোগিতা করেন, আবার কেউ সন্তানদের পড়াশোনার বিষয়ে পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
বাবার একটাই স্বপ্ন—অভাবের কারণে যেন তাঁর সন্তানদের ভবিষ্যৎ থেমে না যায়। তিনি বলেন, “নিজে যত কষ্টই করি, সন্তানগুলো যেন মানুষের মতো মানুষ হতে পারে—এটাই আমার সবচেয়ে বড় চাওয়া।”
অভাব-অনটনের মধ্যেও সন্তানদের জন্য একজন বাবার এই নিরলস পরিশ্রম সত্যিই অনুপ্রেরণার। জীবনের কঠিন পরিস্থিতিতেও দায়িত্ব থেকে পিছিয়ে না যাওয়ার এই গল্প মনে করিয়ে দেয়—সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য একজন বাবা কতটা ত্যাগ স্বীকার করতে পারেন।