উন্নত জীবনের আশায় পরিবারের বড় ছেলে অবৈধ পথে ইউরোপে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। পরিবারের অনেকেই তাকে এমন ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার স্বপ্নে শেষ পর্যন্ত দালালের মাধ্যমে সমুদ্রপথে ইতালির উদ্দেশে রওনা হয় সে।
যাত্রার শুরুতে পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ থাকলেও একপর্যায়ে তার ফোন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর কয়েক ঘণ্টা কেটে গেলেও কোনো খবর না পাওয়ায় স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে থাকে।
মা বারবার ছেলের ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করতে থাকেন। ছোট ভাইও পরিচিতদের মাধ্যমে তার অবস্থান জানার চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য না পাওয়ায় পুরো পরিবার উৎকণ্ঠার মধ্যে পড়ে যায়।
পরে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, সমুদ্রপথে অবৈধ অভিবাসন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এমন যাত্রায় দুর্ঘটনা, নিখোঁজ হওয়া কিংবা প্রাণহানির আশঙ্কা থাকে। তাই তারা ছেলেটির প্রকৃত অবস্থান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেন।
ঘটনাটি পরিবারটিকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। স্বজনদের ভাষ্য, জীবনে ভালো কিছু করার স্বপ্ন থাকা স্বাভাবিক হলেও সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা কখনোই নিরাপদ পথ নয়।
বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন, দালালের প্রলোভনে পড়ে অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করলে মানুষের জীবন ও অর্থ—দুটিই মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিদেশ যেতে হলে বৈধ ও নিরাপদ অভিবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ।