মেডিকেলে পড়তে হলে সে’/ ক্স করতে…see more

মেডিকেলে পড়তে হলে কি যৌনসম্পর্ক করতে হয়? জানুন আসল তথ্য
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই এমন কিছু দাবি ছড়িয়ে পড়ে, যা শুনতে চমকপ্রদ হলেও বাস্তবে তার কোনো ভিত্তি নেই। এর মধ্যে একটি হলো—মেডিকেলে পড়াশোনা করতে হলে নাকি যৌনসম্পর্ক করতে হয়! বিষয়টি নিয়ে অনেকের মধ্যেই কৌতূহল দেখা গেলেও বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

বাংলাদেশে এমবিবিএস পড়তে হলে নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পড়াশোনা এবং মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণসহ সংশ্লিষ্ট ভর্তি নীতিমালা অনুসরণ করতে হয়। সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাইয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

তাহলে যৌনসম্পর্কের বিষয়টি কেন আসে?
মূলত মেডিকেল শিক্ষার পাঠ্যক্রমে মানবদেহ, প্রজনন ব্যবস্থা, যৌনস্বাস্থ্য, গর্ভধারণ, প্রসূতিবিদ্যা ও স্ত্রীরোগসহ বিভিন্ন বিষয় পড়ানো হয়। এসব বিষয়ে ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের বৈজ্ঞানিক জ্ঞান অর্জন করতে হয়।

কিন্তু মানবদেহ ও যৌনস্বাস্থ্য সম্পর্কে পড়াশোনা করা আর নিজের জীবনে যৌনসম্পর্ক করা এক বিষয় নয়। একজন মেডিকেল শিক্ষার্থী বই, লেকচার, ল্যাব, মডেল ও ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এসব বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেন।

মেডিকেলে ভর্তির ক্ষেত্রে আসল প্রয়োজন কী?
মেডিকেলে ভর্তি হতে শিক্ষার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, নির্ধারিত বিষয়গুলোতে পড়াশোনা এবং ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাই করা হয়।

এ ছাড়া বাংলাদেশে এমবিবিএস ডিগ্রি সম্পন্ন করতে সাধারণত একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি ইন্টার্নশিপও করতে হয়। বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ স্বাস্থ্যব্যবস্থা সম্পর্কিত নথিতেও এমবিবিএসের জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাগত যোগ্যতা ও জাতীয় ভর্তি পরীক্ষার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

যৌনসম্পর্ক কি মেডিকেল শিক্ষার কোনো শর্ত?
না। মেডিকেলে ভর্তি, ক্লাস করা, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কিংবা এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জনের জন্য ব্যক্তিগত জীবনে যৌনসম্পর্ক করা কোনো শর্ত নয়।

তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন কোনো পোস্ট বা ভিডিও দেখলে যেখানে দাবি করা হচ্ছে ‘মেডিকেলে পড়তে হলে যৌনসম্পর্ক করতেই হবে’, সেটিকে সত্য ধরে নেওয়ার আগে নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য যাচাই করা উচিত।

সবশেষে বলা যায়, চিকিৎসক হওয়ার পথ নির্ভর করে শিক্ষা, মেধা, পরিশ্রম, ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ওপর—ব্যক্তিগত যৌনজীবনের ওপর নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *