ইতিহাসের এক অদ্ভুত ও নির্মম পরিহাস!
একসময় যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিচার ও দণ্ড দেওয়া হয়েছিল, আজ সেই একই ট্রাইব্যুনালেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হলো।
আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও হত্যাকাণ্ডে উসকানির মামলায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ৭ নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।
এর আগে গত নভেম্বরে একই ট্রাইব্যুনাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
আর আজকের এই ঘটনা মনে করিয়ে দিচ্ছে প্রায় এক যুগ আগের একটি আলোচিত উক্তি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজের বিচার চলাকালে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী বলেছিলেন,
“এই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যেন চালু থাকে, এখানে একদিন হাসিনারও বিচার হবে।”
সেদিন কথাটি অনেকের কাছে হয়তো রাজনৈতিক বক্তব্য, ক্ষোভ কিংবা দম্ভোক্তি মনে হয়েছিল।
কিন্তু ইতিহাস বড় অদ্ভুত জিনিস!
সময় বদলেছে। ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। আর যে ট্রাইব্যুনালে একসময় বিরোধী দলের নেতাদের বিচার হয়েছিল, সেই ট্রাইব্যুনালেই পরবর্তীতে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে বিচার হয়েছে।
ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়—কিন্তু ইতিহাস থেকে যায়।
আজকের রায় সেই ইতিহাসেরই আরেকটি নির্মম অধ্যায়। ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় কেউ হয়তো ভাবতে পারেন, সবকিছু তাঁর নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু সময়ের চাকা ঘুরতে বেশি সময় লাগে না।
আজ যারা বিচারকের আসামির কাঠগড়ায়, একসময় তারাই হয়তো অন্যদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিলেন।
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এটাই ক্ষমতার দম্ভ যত বড়ই হোক, সময়ের কাছে কেউই স্থায়ী নয়।