হঠাৎ চ’মক, বিএনপির নতুন ম’হাসচিব হচ্ছেন …See more

হঠাৎ চমক, বিএনপির নতুন মহাসচিব হচ্ছেন কে? আলোচনায় রিজভীসহ একাধিক নাম
বিএনপির মহাসচিব পদ নিয়ে আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলটির দীর্ঘদিনের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর পদটি কার্যত শূন্য হয়েছে। এরপর দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এখন প্রশ্ন উঠেছে—পরবর্তী পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হিসেবে শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেবে বিএনপি?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে নানা ধরনের পোস্ট ও জল্পনা ছড়িয়ে পড়লেও এখন পর্যন্ত দলীয়ভাবে নতুন পূর্ণাঙ্গ মহাসচিবের নাম ঘোষণা করা হয়নি। ফলে ‘নতুন মহাসচিব হচ্ছেন অমুক’—এমন দাবিকে আপাতত নিশ্চিত খবর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

মির্জা ফখরুলের পর দায়িত্বে রিজভী
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘ সময় বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৬ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি দলের মহাসচিবের পদ থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর রুহুল কবির রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হয়।

রিজভী এর আগে দীর্ঘদিন বিএনপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যও করা হয়েছে। ফলে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের পাশাপাশি স্থায়ী কমিটিতে তাঁর অবস্থানও শক্তিশালী হয়েছে।

রিজভী কি পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হতে পারেন?
বর্তমান আলোচনায় সবচেয়ে বেশি যে নামটি সামনে আসছে, সেটি রুহুল কবির রিজভীর। কারণ তিনি ইতোমধ্যেই ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন এবং দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন।

প্রথম আলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপির আসন্ন জাতীয় কাউন্সিলে নতুন মহাসচিব নির্ধারণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে এবং রিজভীকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব করা হবে কি না, তা দলটির ভেতরে আলোচিত হচ্ছে।

তবে আলোচনায় থাকা আর আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত হওয়া এক বিষয় নয়। বিএনপি এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেনি।

কাউন্সিলেই কি আসতে পারে বড় চমক?
বিএনপির নেতৃত্ব কাঠামোয় পরিবর্তনের বিষয়টি জাতীয় কাউন্সিলকে ঘিরেই সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। কাউন্সিলে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে পরিবর্তন আসতে পারে এবং মহাসচিব পদে নতুন মুখ দেখা যেতে পারে—এমন আলোচনা রয়েছে।

দলটির পরবর্তী কাউন্সিল কবে হবে এবং সেখানে নেতৃত্বে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ রয়েছে। মহাসচিব পদটি এবার বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান বর্তমানে সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দলীয় নেতৃত্বও দিচ্ছেন।

শুধু রিজভী নয়, আরও নাম নিয়ে আলোচনা
বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে মহাসচিব পদে একাধিক নেতার নাম নিয়ে আলোচনা রয়েছে। তবে এসব নামের মধ্যে কে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিবেচনায় রয়েছেন, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট নেতার নাম দিয়ে ‘বিএনপির নতুন মহাসচিব চূড়ান্ত’ ধরনের পোস্ট দেখা গেলেও সেটিকে দলীয় ঘোষণা হিসেবে গ্রহণ করা ঠিক হবে না।

কেন মহাসচিব পদটি গুরুত্বপূর্ণ?
বিএনপির মহাসচিব দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন, দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয়, রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা এবং গণমাধ্যমের সামনে দলের অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রেও মহাসচিবের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে রুহুল কবির রিজভী নিয়মিত দলীয় কর্মসূচিতে বক্তব্য দিচ্ছেন এবং বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরছেন। সাম্প্রতিক দলীয় কর্মসূচিতেও তাঁকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দেখা যাচ্ছে। বিএনপির নিজস্ব ওয়েবসাইটেও আগস্টের একটি কর্মসূচিতে তাঁকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

দলের শূন্য পদ পূরণের উদ্যোগ
বিএনপি সম্প্রতি কেন্দ্রীয়সহ বিভিন্ন কমিটির শূন্য পদ পূরণে পদোন্নতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলের সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করার অংশ হিসেবে এসব পদ পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে রিজভী জানিয়েছেন।

এ কারণে মহাসচিব পদেও স্থায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি সামনে আসতে পারে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।

এখনই কি বলা যায় ‘নতুন মহাসচিব হয়ে গেছেন’?
না। বর্তমানে সবচেয়ে নিরাপদ ও তথ্যভিত্তিক বক্তব্য হলো—রুহুল কবির রিজভী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তাঁকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা রয়েছে।

কিন্তু দলীয় কাউন্সিল বা বিএনপির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে তাঁকে ‘নতুন মহাসচিব’ হিসেবে চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা সঠিক হবে না।

সামনে কী হতে পারে?
বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলের সময়সূচি, নেতৃত্ব পুনর্বিন্যাস এবং দলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের ওপরই এখন মহাসচিব পদটির ভবিষ্যৎ অনেকটা নির্ভর করছে। কাউন্সিল হলে সেখানে দলীয় গঠনতন্ত্র ও নেতৃত্ব নির্বাচনের নিয়ম অনুযায়ী সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

যদি রিজভী পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হন, তাহলে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব থেকেই তিনি স্থায়ীভাবে দলের সাংগঠনিক নেতৃত্বে চলে যাবেন। আর যদি অন্য কাউকে বেছে নেওয়া হয়, তাহলে বিএনপির নেতৃত্ব কাঠামোয় নতুন ধরনের সমীকরণ তৈরি হতে পারে।

শেষ কথা
সব মিলিয়ে বিএনপির নতুন মহাসচিব কে হচ্ছেন—এ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর রুহুল কবির রিজভী ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব নিয়েছেন। তাঁকেই পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব করার আলোচনা সবচেয়ে বেশি সামনে থাকলেও, বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয়।

তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘হঠাৎ চমক, নতুন মহাসচিব চূড়ান্ত’ ধরনের পোস্টের ক্ষেত্রে বিএনপির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা জাতীয় কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করাই হবে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *