আজকের আকাশে চাঁদের পাশে জ্বলছে রহস্যময় ‘তারা’, আসলে কী এটি?
আজ সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার আকাশে চোখ রাখলেই দেখা যাচ্ছে দারুণ এক দৃশ্য। সরু চাঁদের একেবারে কাছাকাছি অত্যন্ত উজ্জ্বল একটি আলোকবিন্দু জ্বলতে দেখা যাচ্ছে। দূর থেকে দেখলে অনেকেরই মনে হতে পারে, চাঁদের পাশে যেন নতুন কোনো উজ্জ্বল তারা দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এমন দৃশ্য নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় এটি কোনো রহস্যময় বা অজানা তারা নয়। চাঁদের পাশে আজ যে অত্যন্ত উজ্জ্বল বস্তুটি দেখা যাচ্ছে, সেটি আসলে শুক্রগ্রহ। সন্ধ্যার আকাশে শুক্র সাধারণত অত্যন্ত উজ্জ্বল দেখায় বলে একে অনেক সময় ভুল করে তারা মনে করা হয়।
কেন চাঁদের এত কাছে দেখা যাচ্ছে?
আজ চাঁদ ও শুক্রগ্রহ আকাশে খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এই ধরনের দৃশ্যকে ‘conjunction’ বা সংযোগ বলে থাকেন। ১৪ সেপ্টেম্বর চাঁদ ও শুক্রের মধ্যে কৌণিক দূরত্ব প্রায় আধা ডিগ্রির কাছাকাছি থাকবে, ফলে খালি চোখে তাকালেও দৃশ্যটি বেশ আকর্ষণীয় মনে হবে।
চাঁদটি আজ খুবই সরু একটি অর্ধচন্দ্রাকৃতির পর্যায়ে রয়েছে। তার পাশে উজ্জ্বল শুক্রগ্রহ থাকায় সন্ধ্যার আকাশে দুটিকে একসঙ্গে দেখতে বেশ মনোমুগ্ধকর লাগছে।
‘রহস্যময় তারা’ আসলে শুক্র
শুক্রগ্রহকে সৌরজগতের অন্যতম উজ্জ্বল গ্রহ হিসেবে দেখা যায়। সূর্য ও চাঁদের পর আকাশে সবচেয়ে উজ্জ্বল প্রাকৃতিক বস্তুগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। এ কারণে অনেক সময় শুক্রকে ‘সন্ধ্যাতারা’ বা ‘ভোরের তারা’ বলা হয়।
তবে শুক্র কোনো তারা নয়। তারা নিজের আলো তৈরি করে, কিন্তু শুক্রগ্রহ সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে উজ্জ্বল দেখায়।
বাংলাদেশ থেকেও দেখা যাচ্ছে দৃশ্যটি
বাংলাদেশের আকাশেও আজ সন্ধ্যায় শুক্রকে দেখা যাওয়ার কথা। ঢাকার জন্য জ্যোতির্বিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, শুক্র সূর্যাস্তের পর পশ্চিম-দক্ষিণ-পশ্চিম আকাশে খুব উজ্জ্বল অবস্থায় থাকে এবং সন্ধ্যার কিছু সময় পর্যন্ত এটি সহজেই নজরে পড়তে পারে।
তাই আকাশ পরিষ্কার থাকলে বাড়ির ছাদ, খোলা মাঠ কিংবা এমন কোনো জায়গা থেকে যেখানে পশ্চিম দিগন্ত পরিষ্কার দেখা যায়, সেখানে দাঁড়িয়ে এই দৃশ্য উপভোগ করা যেতে পারে।
কখন দেখবেন?
সূর্য ডোবার পরপরই পশ্চিম আকাশের দিকে তাকানো সবচেয়ে ভালো। তবে চাঁদ ও শুক্র দুটিই দিগন্তের তুলনামূলক নিচু অবস্থানে থাকবে। তাই গাছপালা, উঁচু ভবন বা অন্য কোনো স্থাপনা পশ্চিম দিগন্ত ঢেকে রাখলে দৃশ্যটি দেখা কঠিন হতে পারে।
জ্যোতির্বিষয়ক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ১৪ সেপ্টেম্বর চাঁদ ও শুক্রের সংযোগ সন্ধ্যার আকাশে একটি উল্লেখযোগ্য জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক দৃশ্য তৈরি করছে।
এটি কি কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা?
না। চাঁদ ও গ্রহের এমন কাছাকাছি অবস্থান একটি স্বাভাবিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা। পৃথিবী, চাঁদ ও অন্যান্য গ্রহ নিজ নিজ কক্ষপথে চলার কারণে বিভিন্ন সময়ে আকাশে তাদের আপাত অবস্থান কাছাকাছি দেখা যায়।
তাই এটিকে কোনো অশুভ সংকেত, রহস্যময় মহাজাগতিক ঘটনা বা পৃথিবীর জন্য বিপদের পূর্বাভাস হিসেবে দেখার কারণ নেই।
এরপরও এমন দৃশ্য দেখা যাবে
সেপ্টেম্বর মাসজুড়েই চাঁদের সঙ্গে বিভিন্ন গ্রহের কাছাকাছি অবস্থান দেখা যাচ্ছে। এর আগে ৭ সেপ্টেম্বর চাঁদের কাছে মঙ্গল এবং ৮–৯ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিকে দেখা গেছে। আগামী ১৬–১৭ সেপ্টেম্বর চাঁদের কাছাকাছি অ্যান্টারেসকেও দেখা যেতে পারে।
অর্থাৎ আজকের দৃশ্যটি একেবারে একক কোনো ঘটনা নয়; এটি সেপ্টেম্বরের বেশ কিছু আকর্ষণীয় আকাশঘটনার একটি অংশ।
আকাশপ্রেমীদের জন্য দারুণ সুযোগ
আজকের চাঁদ-শুক্রের যুগল দৃশ্য খালি চোখেই দেখা সম্ভব হওয়ায় এটি সাধারণ মানুষের জন্যও সহজে উপভোগ করার মতো একটি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা। দূরবীন ছাড়াও পরিষ্কার আকাশে শুক্রকে চেনা সম্ভব হবে।
তবে ছবি তুলতে চাইলে মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় এক্সপোজার কিছুটা কমিয়ে এবং স্থিরভাবে ফোন ধরে ছবি তুললে চাঁদের আকৃতি ও পাশে থাকা উজ্জ্বল শুক্রকে তুলনামূলক ভালোভাবে ধারণ করা যেতে পারে।
শেষ কথা
তাই আজকের আকাশে চাঁদের পাশে জ্বলতে থাকা উজ্জ্বল ‘রহস্যময় তারা’ নিয়ে কৌতূহলের কারণ থাকলেও রহস্যের উত্তরটি বেশ সুন্দর—এটি তারা নয়, আমাদের সৌরজগতের প্রতিবেশী গ্রহ শুক্র।
চাঁদের সরু বাঁকা অংশের পাশে অত্যন্ত উজ্জ্বল শুক্রের এই অবস্থান ১৪ সেপ্টেম্বরের রাতের আকাশকে বিশেষ আকর্ষণীয় করে তুলেছে। আকাশ পরিষ্কার থাকলে আজ সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশে চোখ রাখলেই দেখা মিলতে পারে এই সুন্দর মহাজাগতিক দৃশ্যটির।