স্বামী তার স্ত্রীর লজ্জাস্থানে মুখ দেওয়া নিয়ে ইসলাম ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গি
দাম্পত্য জীবন নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই আলোচনায় আসে। এর মধ্যে একটি বহুল আলোচিত বিষয় হলো—স্বামী তার স্ত্রীর লজ্জাস্থানে মুখ দিতে পারবেন কি না। বিষয়টি নিয়ে ধর্মীয় ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা হতে পারে, তাই নির্ভরযোগ্য তথ্য জানা জরুরি।
ইসলামী শরিয়তে স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সম্পর্ককে বৈধ ও সম্মানজনক হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তবে এ ধরনের নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে কুরআন ও সহিহ হাদিসে স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। ফলে বিভিন্ন ইসলামী আলেমের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। অনেক আলেমের মতে, যদি এতে কোনো হারাম কাজ না থাকে, নাপাক বস্তু গ্রহণ না করা হয় এবং উভয়ের সম্মতি থাকে, তাহলে এটি নিষিদ্ধ নয়। আবার অন্য কিছু আলেম এটিকে অপছন্দনীয় (মাকরুহ) বা পরিহারযোগ্য বলে মত দেন। তাই এ বিষয়ে নিজের অনুসৃত মাজহাব বা বিশ্বস্ত আলেমের পরামর্শ নেওয়াই উত্তম।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, এ ধরনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ক্ষেত্রে উভয়ের সম্মতি, পরিচ্ছন্নতা এবং যৌনবাহিত সংক্রমণ (STI) সম্পর্কে সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি কারও যৌনাঙ্গে ঘা, সংক্রমণ বা অন্য কোনো সমস্যা থাকে, তাহলে এ ধরনের কার্যকলাপ থেকে বিরত থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ দাম্পত্য জীবনের মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক সম্মান, খোলামেলা যোগাযোগ এবং একে অপরের স্বাচ্ছন্দ্যকে গুরুত্ব দেওয়া। কোনো বিষয়েই জোরপূর্বক আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।
সামাজিক মাধ্যমে এ ধরনের বিষয় নিয়ে অনেক বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। তাই ধর্মীয় বিষয়ে নির্ভরযোগ্য আলেমের মতামত এবং স্বাস্থ্যগত বিষয়ে নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ ও সঠিক পথ।

Reporter Name 






















