সৌদি প্রবাসী ৬০ লাখ টাকা খরচ করে গ্রামে বিল্ডিং বানালেন, অথচ নিজের ঘরেই থাকার জায়গা হলো না!
পরিবারের সুখের আশায় বছরের পর বছর প্রবাসে কাটিয়েছেন। তীব্র গরম, কঠোর পরিশ্রম আর নিজের সব ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা বিসর্জন দিয়ে একটাই স্বপ্ন দেখেছিলেন—গ্রামে একটি সুন্দর বাড়ি হবে, যেখানে পরিবারের সবাই একসঙ্গে সুখে-শান্তিতে বসবাস করবেন।
দীর্ঘদিন সৌদি আরবে কাজ করে ধীরে ধীরে প্রায় ৬০ লাখ টাকা খরচ করে গ্রামের বাড়িতে একটি দৃষ্টিনন্দন বিল্ডিং নির্মাণ করেন তিনি। বাড়ির কাজ শেষ হওয়ার পর আনন্দে আত্মহারা হয়ে দেশে ফেরেন। কিন্তু বাড়িতে ফিরে যে বাস্তবতার মুখোমুখি হলেন, তা তার কল্পনারও বাইরে ছিল।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিরোধ শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, নিজের কষ্টার্জিত অর্থে নির্মিত বাড়িতেই স্বস্তি নিয়ে থাকতে পারেননি তিনি। মানসিক কষ্টে অনেক সময় বাইরে বা আত্মীয়ের বাড়িতে রাত কাটাতে হয়েছে বলেও ঘনিষ্ঠজনদের কাছে আক্ষেপ করেন তিনি।
প্রতিবেশীরা জানান, বিদেশে থাকা অবস্থায় তিনি নিয়মিত পরিবারের জন্য টাকা পাঠাতেন। গ্রামের মানুষও তাকে একজন পরিশ্রমী ও সৎ মানুষ হিসেবেই চিনতেন। কিন্তু পারিবারিক দ্বন্দ্ব তার বহু বছরের স্বপ্নকে ম্লান করে দিয়েছে।
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, প্রবাসীদের উপার্জনে গড়ে ওঠা সম্পদ নিয়ে পারিবারিক বিরোধ নতুন কোনো বিষয় নয়। সময়মতো পারস্পরিক আলোচনা, সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং আইনি কাগজপত্র ঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে অনেক বিরোধ এড়ানো সম্ভব।
প্রবাসীদের ত্যাগ শুধু অর্থের নয়, পরিবার থেকে বছরের পর বছর দূরে থাকারও। তাই তাদের কষ্টের মূল্যায়ন করা, পারিবারিক সম্পর্ককে সম্মান করা এবং পারস্পরিক বিশ্বাস বজায় রাখাই একটি সুন্দর পরিবারের ভিত্তি।

Reporter Name 



















