একটু পানি সরে গেলেই যদি আমরা ভাবি—“সমুদ্র শু*কিয়ে গেছে, কি*য়ামত চলে এসেছে!” তাহলে প্রশ্ন হলো, আমাদের জ্ঞান-বুদ্ধি কোথায়?
প্রথমেই জানা দরকার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ভিডিওটি ছড়িয়ে দিয়ে দা*বি করা হয়েছে—“আ*র্জেন্টি*নায় একরাতে সমুদ্র শু*কিয়ে গেছে”, সেই ভিডিওটি আসলে আ*র্জেন্টি*নার নয়। ভিডিওটি ভা*রতের গুজ*রাটের আলাং এলাকার জাহাজভা*ঙা উপকূলের দৃশ্য বলে শ*নাক্ত করা হয়েছে।
এখন প্রশ্ন হলো, তাহলে এত বিশাল এলাকা খালি দেখা যাচ্ছে কেন?
এর পেছনে রয়েছে জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক বিজ্ঞান। বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মূলত চাঁদের মহাকর্ষীয় আকর্ষণ, সূর্যের প্রভাব এবং পৃথিবীর অবস্থানের কারণে সমুদ্রের পানি নিয়মিত ওঠানামা করে। জোয়ারের সময় পানি উপকূলের দিকে এগিয়ে আসে, আবার ভাটার সময় অনেক দূরে সরে যায়। কোনো কোনো এলাকায় ভাটার সময় পানি এতটাই সরে যায় যে, বিশাল এলাকা শুকনো বা খালি মনে হয়।
কিন্তু সবচেয়ে দুঃ*খজ*নক এবং অবাক করার বিষয় হলো—আমরা কতটা জ্ঞা*নহীন হলে একটি ভিডিও দেখে, সেটি কোথাকার বা ঘটনাটি আসলে কী তা যাচাই না করেই বিশ্বাস করে ফেলি যে, “আ*র্জেন্টিনার সমুদ্র একরাতে শু*কিয়ে গেছে!”
একজন একটি কথা লিখে দিল, আর আমরা সেটাকেই সত্য ধরে নিয়ে হাজার হাজার মানুষের কাছে ছড়িয়ে দিলাম। কেউ জানার চেষ্টা করলাম না—আর্জেন্টিনায় সত্যিই এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, ভিডিওটি আসলে কোথাকার, কিংবা সমুদ্রের পানি জোয়ার-ভাটার কারণে সরে যেতে পারে কি না।
না জানাটা লজ্জা*র বিষয় নয়। কিন্তু না জেনেই কোনো বিষয়কে সত্য হিসেবে প্রচার করা, আর যাচাই ছাড়া অ*ন্ধভাবে বিশ্বাস করে ছড়িয়ে দেওয়া—সেটাই প্রকৃত মূ*র্খতা।