আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ‘নীরব বহিষ্কার’ বা ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ ব্যবস্থা পুনরায় কার্যকর করছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। সম্প্রতি প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৬-এ এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সাইলেন্ট এক্সপেল বা নীরব বহিষ্কার কী?
পরীক্ষার হলে কোনো পরীক্ষার্থী যদি কথা বলা, ঘাড় ঘোরানো, একে অপরের খাতা দেখা বা অন্য কোনো ছোটখাটো নিয়ম ভঙ্গ করে, তবে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে হল থেকে বের না করে ‘নীরব বহিষ্কার’ করা হয়। এতে পরীক্ষার্থী সেই মুহূর্তে বুঝতে পারেন না যে তিনি বহিষ্কৃত হয়েছেন, কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তীতে তার ওই খাতা বা পুরো পরীক্ষা বাতিল করা হতে পারে। মূলত হাতেনাতে বড় কোনো নকলের ঘটনা না ঘটলেও অসদুপায় অবলম্বনের চেষ্টা ঠেকাতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো পরীক্ষার্থীকে নীরব বহিষ্কার করা হলে দায়িত্বরত পরিদর্শক (ইনভিজিলেটর) তার সৃজনশীল উত্তরপত্রের কভার পৃষ্ঠার প্রথম অংশ না ছিঁড়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন তৈরি করবেন। বোর্ডের ওয়েবসাইটে দেওয়া গোপনীয় ফরমে ওই পরীক্ষার্থীর তথ্য ও বহিষ্কারের কারণ সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। এরপর ওই উত্তরপত্রটি আলাদা করে প্যাকেটের ওপরে লাল কালি দিয়ে বড় অক্ষরে ‘রিপোর্টেড’ লিখে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে পাঠাতে হবে।
নীরব বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীকে সেই দিনের পরীক্ষার পর পরবর্তী বিষয়গুলোর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে। তবে নীতিমালায় বলা হয়েছে, পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে সে কোনো অসদুপায় অবলম্বন না করলেও তার প্রতিটি উত্তরপত্র একই প্রক্রিয়ায় আলাদা প্যাকেটে ভরে প্রতিবেদনসহ পাঠাতে হবে। চূড়ান্তভাবে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর ওই শিক্ষার্থীর সকল উত্তরপত্র ও প্রতিবেদন যাচাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
পরীক্ষার্থীদের অসদুপায় থেকে বিরত রাখতে এবং পরীক্ষার হলে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতেই এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো।

Reporter Name 














