বিরোধীদলীয় উপনেতার বক্তব্যের সময় স্পিকারের আসন খালি, জানা গেল হঠাৎ কোথায় গেলেন তিনি
জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বক্তব্য দেওয়ার সময় হঠাৎ দেখা যায়, স্পিকারের আসনটি খালি। বিষয়টি চোখে পড়তেই সংসদ সদস্যদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়। একপর্যায়ে স্পিকার কোথায় গেছেন, তা নিয়ে সংসদ কক্ষে আলোচনা শুরু হয়। পরে জানা যায়, স্পিকার সাময়িক সময়ের জন্য টয়লেটে গিয়েছিলেন।
ঘটনাটি ঘটে ৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে। ওই সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ৩০০ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সংসদে বক্তব্য রাখছিলেন। বক্তব্যের মাঝামাঝি সময়ে তিনি লক্ষ্য করেন, সংসদের সভাপতির আসনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নেই।
স্পিকারের আসন খালি দেখতে পেয়ে তাহের কিছুক্ষণের জন্য তাঁর বক্তব্য থামিয়ে দেন। একই সঙ্গে সংসদ সদস্যদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সংসদের মাইক্রোফোনে তাদের কথোপকথনের অংশও শোনা যায় বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘স্পিকার টয়লেটে গেছেন।’ এরপর বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায় যে, স্পিকার কোনো রাজনৈতিক কারণে বা অধিবেশন বর্জন করে আসন ছেড়ে যাননি; তিনি সাময়িক প্রয়োজনেই আসন থেকে উঠেছিলেন।
কিছুক্ষণ পর স্পিকার আবার তাঁর আসনে ফিরে আসেন। এরপর সংসদের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকে এবং বিরোধীদলীয় উপনেতা তাঁর বক্তব্য চালিয়ে যান। ফলে ঘটনাটি নিয়ে তৈরি হওয়া কৌতূহলেরও অবসান হয়।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয় মূলত স্পিকারের আসন হঠাৎ খালি হয়ে যাওয়ার কারণে। সংসদ অধিবেশনে স্পিকারের আসনটি সবসময় দৃশ্যমান থাকায় সেখানে সভাপতির অনুপস্থিতি দ্রুতই সংসদ সদস্যদের নজরে আসে।
এদিকে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এর আগেও সংসদে স্পিকারের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেছেন। চলতি বছরের জুনে সংসদে বক্তব্যের ক্রম ও সময় নির্ধারণ নিয়ে তাঁর সঙ্গে স্পিকারের মতপার্থক্যও প্রকাশ্যে এসেছিল। তবে সেপ্টেম্বরের এই ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং স্পিকারের সাময়িক ব্যক্তিগত প্রয়োজনের কারণে তিনি আসন থেকে উঠে গিয়েছিলেন।
ঘটনার সময় সংসদ সদস্যদের মধ্যে কিছুটা বিস্ময় তৈরি হলেও পরে বিষয়টি নিয়ে আর কোনো জটিলতা তৈরি হয়নি। স্পিকার ফিরে আসার পর অধিবেশনের কার্যক্রম আগের মতোই চলতে থাকে।
সব মিলিয়ে, বিরোধীদলীয় উপনেতার বক্তব্যের সময় স্পিকারের আসন খালি দেখে সংসদে সাময়িক কৌতূহল তৈরি হলেও পরে জানা যায়, স্পিকার সাময়িকভাবে টয়লেটে গিয়েছিলেন। কিছুক্ষণ পর তিনি নিজের আসনে ফিরে আসেন এবং সংসদের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকে।