ব’উ যদি অন্য বে’ডা নিয়ে ভে’/গে যায় তাহলে কি দেন মো’/হর দিতে বা’/ধ্য….see more

বউ অন্য পুরুষের সঙ্গে চলে গেলে কি স্বামীকে দেনমোহর দিতেই হবে?
বিয়ের পর স্ত্রী অন্য কোনো পুরুষের সঙ্গে চলে গেলে অনেকের মনে একটি প্রশ্ন আসে—এ অবস্থায় কি স্বামীকে আর দেনমোহর দিতে হবে? বিষয়টি নিয়ে সমাজে নানা ধরনের ভুল ধারণা রয়েছে। অনেকে মনে করেন, স্ত্রী সংসার ছেড়ে চলে গেলে কিংবা অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করলে তার দেনমোহরের অধিকার শেষ হয়ে যায়। কিন্তু বিষয়টি এত সরল নয়।

দেনমোহর বা মোহরানা হলো বিবাহের সময় স্ত্রীর জন্য নির্ধারিত একটি আর্থিক অধিকার। এটি বিয়ের চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই শুধু স্ত্রী স্বামীর সঙ্গে থাকছেন না বা সংসার ছেড়ে চলে গেছেন—এই কারণেই দেনমোহর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায় না।

তবে কোনো দাম্পত্য সম্পর্ক ভেঙে গেলে দেনমোহরের চূড়ান্ত হিসাব কী হবে, সেটি নির্ভর করতে পারে বিচ্ছেদের ধরন, কাবিননামার শর্ত, দেনমোহরের কত অংশ ইতোমধ্যে পরিশোধ হয়েছে এবং আদালত বা সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ায় কী সিদ্ধান্ত হয়েছে তার ওপর।

স্ত্রী অন্য কারও সঙ্গে চলে গেলে কী হবে?
ধরা যাক, একজন স্ত্রী স্বামীর সংসার ছেড়ে অন্য একজন পুরুষের সঙ্গে চলে গেলেন। এই ঘটনা নিজে থেকেই কাবিননামায় উল্লেখ থাকা দেনমোহরের অঙ্ককে বাতিল করে দেয় না। স্বামী যদি বলেন যে স্ত্রী অন্য পুরুষের সঙ্গে চলে গেছেন, তাহলে সেটি আলাদা পারিবারিক বা বৈবাহিক বিরোধের বিষয় হতে পারে; কিন্তু দেনমোহরের প্রশ্ন আলাদাভাবে বিবেচিত হবে।

অর্থাৎ, “স্ত্রী চলে গেছে, তাই দেনমোহর দেব না”—এমন সরল নিয়ম নেই।

তাহলে কখন দেনমোহর কমতে বা ছাড়তে পারে?
এখানে খুলা বা পারস্পরিক সমঝোতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। স্ত্রী যদি বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য খুলার পথে যান এবং দেনমোহর বা অন্য কোনো আর্থিক অধিকার ছাড়ার বিষয়ে বৈধ সমঝোতা হয়, তাহলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।

তবে শুধু মুখে মুখে “দেনমোহর লাগবে না” বলা এবং আইনগতভাবে অধিকার ত্যাগ করা এক বিষয় নয়। কোনো নির্দিষ্ট ঘটনায় কী হয়েছে তা কাবিননামা, বিচ্ছেদের নথি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য দেখে নির্ধারণ করতে হয়।

স্বামী কি স্ত্রীকে দেনমোহর না দিয়ে থাকতে পারবেন?
যদি দেনমোহর বকেয়া থাকে এবং সেটি বৈধভাবে পরিশোধ বা নিষ্পত্তি না হয়ে থাকে, তাহলে শুধু স্ত্রী অন্য জায়গায় চলে যাওয়ার ঘটনা দেখিয়ে স্বামী নিজের দায় থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুক্ত হয়ে যাবেন—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

বাংলাদেশে পারিবারিক বিরোধের ক্ষেত্রে আইনগত প্রতিকার নেওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং সরকারি আইনগত সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে। বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তিরা আইনগত সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারেন।

দেনমোহর আর ভরণপোষণ এক বিষয় নয়
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—দেনমোহর এবং ভরণপোষণ একই জিনিস নয়।

দেনমোহর হলো বিবাহের সময় নির্ধারিত আর্থিক অধিকার। অন্যদিকে ভরণপোষণ হলো দাম্পত্য সম্পর্ক ও প্রযোজ্য আইনের অধীনে খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা ইত্যাদি প্রয়োজন মেটানোর বিষয়।

তাই স্ত্রী স্বামীর সংসারে থাকছেন কি না বা দাম্পত্য সম্পর্কের মধ্যে বিরোধ হয়েছে কি না—এসব বিষয় ভরণপোষণের প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কিন্তু দেনমোহরের হিসাব আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হয়।

শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নয়
কোনো স্ত্রী অন্য পুরুষের সঙ্গে চলে গেছেন—এমন অভিযোগ উঠলেই বিষয়টি সত্য ধরে নেওয়া উচিত নয়। একইভাবে কোনো স্বামীও শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে স্ত্রীর দেনমোহরের অধিকার বাতিল হয়েছে বলে ধরে নিতে পারেন না।

প্রত্যেক ঘটনার বাস্তব পরিস্থিতি আলাদা। বিয়ে কীভাবে হয়েছিল, কাবিননামায় কী লেখা আছে, দেনমোহর তাৎক্ষণিক নাকি বিলম্বিত ছিল, কোনো অংশ আগে দেওয়া হয়েছে কি না এবং বিচ্ছেদ কীভাবে হয়েছে—এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।

শেষ কথা
সুতরাং সংক্ষেপে বলা যায়, স্ত্রী অন্য পুরুষের সঙ্গে চলে গেলেই দেনমোহর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না। দেনমোহর বিয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি পৃথক আর্থিক অধিকার। তবে বিচ্ছেদের ধরন, খুলা, পারস্পরিক সমঝোতা, কাবিননামার শর্ত এবং প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট ঘটনায় ফলাফল ভিন্ন হতে পারে।

কোনো বাস্তব মামলায় কত টাকা দেনমোহর দিতে হবে বা আদৌ কোনো অংশ বাকি আছে কি না—এটি নির্ধারণের জন্য কাবিননামা ও বিচ্ছেদের নথি দেখে আইনজীবী বা স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *